বাংলাদেশ সরকারের প্রতীক

প্রথমবারের মতো ‌পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস

বাংলাদেশ সরকারের প্রতীকদেশে প্রথমবারের মতো আগামীকাল রোববার, ২২ অক্টোবর পালিত হতে যাচ্ছে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘সাবধানে চালাব গাড়ি, নিরাপদে ফিরব বাড়ি।’

দেশব্যাপী সরকারিভাবে ও দেশের বাইরে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সংশ্লিষ্টরা সভা-সেমিনার ও শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করবে।দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা এবং পরিবহন-সংশ্লিষ্ট সংগঠনসমূহ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে অচিরেই এ দেশে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ইউনাইটেড ন্যাশন্স ডিক্যাড অব অ্যাকশান ফর রোড সেফটি ২০১১-২০ এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০-এর অনুসমর্থনকারী হিসেবে গোল-৩.৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যে অ্যাকশন প্লান প্রস্তুত করে বাস্তবায়নাধীন আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ পুনর্গঠনে যুদ্ধবিধ্বস্ত সড়ক অবকাঠামো স্বল্প সময়ের মধ্যে মেরামত ও পুনর্নির্মাণ করে সুষ্ঠু যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী মহাসড়ক অবকাঠামো নির্মাণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

বিভিন্ন মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে, নতুন নতুন রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্ট, ফ্লাইওভার ও ওভারপাস নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ ও মেরামত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা টেকসই, নিরাপদ ও মানসম্মত সড়ক অবকাঠামো এবং সমন্বিত আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী দিবসটি উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

এদিকে, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিকল্প যানবাহনের টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সময়ের চেয়ে জীবন মূল্যবান। সড়ক দুর্ঘটনায় অকালে মূল্যবান জীবন ঝরে যাক তা কেউ চায় না। তাই সড়ককে নিরাপদ ও আরামদায়ক করার পাশাপাশি বিকল্প যানবাহনের টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।’

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো এবং পর্যাপ্ত পরিবহন সেবা টেকসই অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। বর্তমানে সড়কপথে মোটরযানের সংখ্যা, যাত্রী এবং যানবাহনের গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘বলতে গেলে সড়ক দুর্ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন কেউ না কেউ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন সড়কে, মহাসড়কে। সরকার সড়ককে নিরাপদ করতে একমুখী চলাচল, জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, সড়ক ডিভাইডার নির্মাণ, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁককে সরলীকরণ, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড, চালকদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, এ সত্ত্বেও মহাসড়কে গাড়িচালকদের প্রতিযোগিতা, অদক্ষতা, ওভারলোডিং, চালকের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও প্রশিক্ষণের অভাব, পথচারীদের ট্রাফিক আইন না-মানা, আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব ও সামাজিক অসচেতনতাসহ বিভিন্ন কারণে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক যাত্রীর জীবন কেড়ে নিচ্ছে।

তিনি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি গাড়িচালক, মালিক, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন, পথচারী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান।

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ অক্টোবর ২০১৭/হাসান/মুশফিক

(তথ্য সূত্র: http://risingbd.com/national-news/243504 তারিখ: ২৬ অক্টোবর ২০১৭ খ্রি:)

[উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের মিরসাইয়ে ২০১১ সালের ১১ জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় দুর্ঘটনায় ৪৩ জন স্কুলছাত্রের মৃত্যুর দিনটিও নিরাপদ সড়ক দিবসের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিল।  ]
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Copyright © 2020 |Traffic FM Privacy Policy|Site Edited by Deputy Director (Traffic) | Maintained By Director (Traffic) | Supervised By DDG(Programme), Bangladesh Betar | Developed By SA Web Service