বেতার সম্প্রচারের ঘটনা প্রবাহ

বাংলাদেশ বেতার দেশ ও জনগণের স্বার্থে ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকালে অত্যন্ত সহায়ক ও স্বার্থক ভূমিকা পালন করে। মুক্তিযুদ্ধকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র নামে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় ফ্রন্ট নামেও খ্যাত হয়েছিল।  বাংলাদেশ রাষ্ট্র বিনির্মাণের অসাধারণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ বেতার ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদক “স্বাধীনতা পদক-২০০৬” লাভ করে। দেশ ও জাতি গঠনে সতত প্রয়াস রচনা করে যাওয়া বাংলাদেশ বেতার এদেশের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম অডিও গণমাধ্যম। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে লব্ধ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জনের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের এই আনন্দ ক্ষণে ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আজকের বাংলাদেশ বেতার গড়ে উঠার পেছনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাসমূহ বছরওয়ারি হিসেবে ধারাবাহিকভাবে নিম্নে তুলে ধরা হলো:

১৮ই অক্টোবর ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ :

বাণিজ্যিক সম্প্রচারের উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কোম্পানি লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ ও আমেরিকার প্রভাবশালী কোম্পানীসমূহ যথা: দি মার্কনী কোম্পানী, জেনারেল ইলেকট্রিক, আমেরিকান টেলিফোন এন্ড টেলিগ্রাফ কোম্পানীর মতো কর্পোরেট জায়ান্টরা বাণিজ্যিক মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কোম্পানী গড়ে তোলেন। জন রিথ ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

১৪ই নভেম্বর ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ:

লন্ডনের মার্কোনী হাউসের ২এলও স্টেশন থেকে প্রথম বেতার অনুষ্ঠান সম্প্রচার। ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কোম্পানীর উদ্দেশ্য ছিল দেশব্যাপী জাতীয় রেডিও নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার মালিকানার ভিত্তিতে সারা দেশে একাধিক মালিকানায় অসংখ্য ট্রান্সমিশন স্টেশন স্থাপন ছিল এর কৌশল। পরবর্তীতে, যৌথ ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জাতীয় সম্প্রচার সেবা প্রদান করাই ছিল কোম্পানীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। কোম্পানীর মূল লাভের সূত্র ছিল রেডিও সেট বিক্রি এবং লাইসেন্স ফি ও এর নবায়ন ফি। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী রেডিও সেটের বিক্রির অপ্রতুলতা কোম্পানীর প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জন এবং অর্থনৈতিক স্থায়িত্বকে ঝুকিপূর্ণ করে তোলে।

২রা মার্চ ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ:

১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটেনে দ্যা কমিটি অন ব্রডকাস্টিং গঠিত হয়। এই কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন Earl of Crawford and Balcarres । তাই, এই কমিটি ক্র্যাফোর্ড কমিটি নামে পরিচিতি লাভ করে। ক্র্যাফোর্ড কমিটি কর্তৃক ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের ২রা মার্চ ক্র্যাফোর্ড রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে সম্প্রচার কার্যক্রমকে একটি “পাবলিক সার্ভিস” হিসেবে সরকারীভাবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয় এবং একই সাথে সমগ্র ব্রিটেন জুড়ে সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাজকীয় সনদের দ্বারা ঘোষিত একটি ট্রাস্টিশীপ-এর অধীনে অলাভজনক ভিত্তিতে পাবলিক কর্পোরেশন দ্বারা সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার সুপারিশ করা হয়। ক্রাফোর্ড কমিশনের এই প্রতিবেদনকে পাবলিক সার্ভিস ব্রডকাস্টিং বা জনসেবায় সম্প্রচার কার্যক্রমের মৌলিক ঘোষণা বলা যেতে পারে। এটি মূলত সময়ের আবর্তে জনসেবায় সম্প্রচার কার্যক্রমের মূল ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

১লা জানুয়ারি ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ

রাজকীয় সনদ ঘোষণার মাধ্যমে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন-এর যাত্রা শুরু। জন রিথ ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক। জন রিথ ঘোষণা করেন, বেতার সম্প্রচারের মূল উদ্দেশ্য হবে তিনটি। যথা: শিক্ষা, তথ্য ও বিনোদন। এই উদ্দেশ্যগুলো এখনো বেতার সম্প্রচারের জন্য প্রযোজ্য।

বিবিসি’র প্রথম ডিরেক্টর জেনারেল জন রিথ (২০ জুলাই ১৮৮৯ – ১৬ জুন ১৯৭১ খ্রিস্টব্দ)।

১৫ই জুলাই, ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ:

তৎকালীন বোম্বের ওরলি প্রকাশনা শুরু হয় ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানীর ইংরেজি মুখপত্র “ইন্ডিয়ান রেডিয়ো টাইমস”। পরবর্তীতে, ২২শে ডিসেম্বর, ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে পত্রিকাটির নামকরণ করা হয় “দ্যা ইন্ডিয়ান লিসেনার”। ৬ই এপ্রিল, ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে অল ইন্ডিয়া রেডিয়োর বেতার অনুষ্ঠানসূচি জ্ঞাপক হিন্দী মুখপত্র  “আওয়াজ” প্রকাশিত হয়। ১লা জুলাই, ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে আওয়াজ পত্রিকার নামকরণ করা হয় “সারঙ”। ৫ই জানুয়ারি ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজি “দ্যা লিসেনার” এবং হিন্দী “সারঙ” -দু’টি মুখপত্রের নাম হয় আকাশবাণী।

২৩শে জুলাই ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ:

ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানী (আইবিসি) উদ্বোধন করেন ভাইস রয় অব ইন্ডিয়া লর্ড ইরউইন। এই দিন ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানী’র তৎকালীন বোম্বে বেতার কেন্দ্র সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু করে। স্টেশন ডিরেক্টর হন মি. এল বি পেইজ। এই তারিখটি বর্তমানে ’ভারতে সংগঠিত বেতার ব্যবস্থা প্রবর্তনের দিন’ হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। ভারতবর্ষে আইবিসি কোম্পানী গঠন করেন সেই সময়ের সুবিখ্যাত পার্সি ব্যবসায়ী মি. এফ এম চিনয়। প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে নিয়ে আসা হয় বিবিসি-র ই সি ডানস্টানকে।

২৬শে আগস্ট ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ:

ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানীর (আইবিসি) কলকাতা বেতার কেন্দ্র সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু করে। কলকাতার ১ নং গারস্টিন প্লেসের বাড়িতে ভারতের দ্বিতীয় বেতার কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন গর্ভনর স্যার স্ট্যানলি জ্যাকসন। কলকাতা বেতার কেন্দ্রের স্টেশন ডিরেক্টর হন মি. সি সি ওয়ালিক।

১৭ই জানুয়ারি, ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দ:

অসমঞ্জ মুখোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে প্রথম বেতার নাটক ”জমা খরচ” প্রচার। বেতার নাট্যরূপ ও প্রধান চরিত্রে নৃপেন্দ্রনাথ মজুমদার।

১লা মার্চ ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ:

ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানী লিমিটেড (আইবিসি) দেউলিয়া ঘোষিত। সম্প্রচার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ। (সুত্র: অল ইন্ডিয়া রেডিও)।

১লা এপ্রিল ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ:

পরীক্ষামূলকভাবে সরকারী মালিকাধীনে ইন্ডিয়ান স্টেট ব্রডকাস্টিং সার্ভিসের (আইএসবিএস) সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু। সরকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি শিল্প ও শ্রম অধিদপ্তরের অধীনে কার্যক্রম শুরু করে।

৯ই অক্টোবর ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ:

ভারত সরকার ইঞ্চকেপ কমিটির নির্দেশ মতো ইন্ডিয়ান স্টেট ব্রডকাস্টিং সার্ভিস (আইএসবিএস) বন্ধ করে দেবার সিদ্ধান্ত নেন।

২৩শে নভেম্বর, ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ:

ভারতে বেতার দফতরের পরিচালন সমিতির ভারপ্রাপ্ত অফিসার স্যার জোসেফ ভোর, ভারত সরকারকে বুঝাতে সক্ষম হন, প্রচারধর্মী এই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ কওে দেয়া মোটেই যুক্তিসঙ্গত হবে না। সরকার সাময়িকভাবে বেতার সম্প্রচার চালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেন। স্যার জোসেফ ভোর-এর এই উদ্যোগ ও সদিচ্ছা না থাকলে ভারতীয় উপমহাদেশে বেতার সম্প্রচারের ইতিহাস অন্য দিকে বাঁক নিত।

৫ই মে, ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ:

ভারত সরকার কর্তৃক বেতার সম্প্রচার সরকারী পরিচালনায় চালু রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

১৯শে ডিসেম্বর ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ:

বিবিসি এম্পায়ার সার্ভিস এর যাত্রা শুরু। প্রতিষ্ঠাকালীন সার্ভিসটির মোটো ছিল নেশান সেল স্পিক পিস আনটু নেশন।  ১লা মে ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে সার্ভিসটির নতুন নামকরণ করা হয় বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস।

মার্চ, ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দ:

শিল্প ও শ্রম অধিদপ্তরের অধীনে নতুন দপ্তর ডিপার্টমেন্ট অব কন্ট্রোলার অব ব্রডকাস্ট প্রতিষ্ঠা। (সুত্র: অল ইন্ডিয়া রেডিও)।

৩০শে অগাস্ট, ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দ:

লিওনেল ফিল্ডেন প্রথম কন্ট্রোলার অব ব্রডকাস্টিং ইন ইন্ডিয়া হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ভারত সরকারের আমন্ত্রনে বিবিসি থেকে একজন বিশেষজ্ঞকে হিসেবে ইন্ডিয়ান স্টেট ব্রডকাস্টিং সার্ভিসকে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিয়ে ভারতে আগমন করেন। (সুত্র: অল ইন্ডিয়া রেডিও)।

 ১৯শে জানুয়ারি, ১৯৩৬:

অল ইন্ডিয়া রেডিও থেকে প্রথম সংবাদ বুলেটিন প্রচার।

মার্চ, ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ:

দিল্লী কেন্দ্রে স্টেশন ডিরেক্টর পদে যোগ দেন আহম্মদ শাহ বোখারি।

৮ই জুন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ:

ইন্ডিয়ান স্টেট ব্রডকাস্টিং সার্ভিস-এর নতুন নামকরণ করা হয় অল ইন্ডিয়া রেডিও। লায়োনেল ফিল্ডেনের উদ্যোগে “ইন্ডিয়ান স্টেট ব্রডকাস্টিং সার্ভিস”-এর নাম হয় ”অল ইন্ডিয়া রেডিও”। ফিল্ডেন তখনকার ভাইসরয় লর্ড লিনলিথগো-কে বুঝাতে সক্ষম হন যে সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ’অল ইন্ডিয়া’ কথাটি জুড়ে দেওয়া যথাযথ। এছাড়াও, অওজ এবং ধরৎ -এ দুটি শব্দের ব্যঞ্জনাও এক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যময়।

৯ জুলাই, ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ:

জনাব এ এস বোখারি, স্টেশন ডিরেক্টর, দিল্লী, অল ইন্ডিয়া রেডিও পদোন্নতি পেয়ে ডেপুটি কন্ট্রোলার অব ব্রডকাস্টিং হিসেবে নিযুক্ত হন।

১৯শে অগাস্ট, ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ:

অল ইন্ডিয়া রেডিওর প্রথম চিফ ইঞ্জিনিয়ার হলেন বিবিসি (ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন)-এর সি ডবলু গয়ডার।

৯ই সেপ্টেম্বর, ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ:

চার্লস বার্নস অল ইন্ডিয়া রেডিয়োর প্রথম বার্তা সম্পাদক হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেন।

১৬ই আগস্ট ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ:

কলকাতা বেতারের শর্টওয়েভ ট্রান্সমিটারের শক্তি বাড়িয়ে ১০ কিলোওয়াট করা হয়। এজন্য আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন তৎকালীন গভর্নর রবার্ট রীড। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কবিতা পাঠ করা হয়।

“ধরার আঙ্গিনা হতে ঐ শোন উঠিল আকাশবাণী,

অমর লোকের মহিমা দিল যে মর্ত্যলোকেরে আনি।

সরস্বতীর আসন পাতিল সনীল গগনের মাঝে,

আলোকবীণার সভামন্ডলে মানুষের বীণা বাজে।

সুরের প্রবাহ ধায় সুরলোকে, দূরকে সে নেয় চিনি।

কবি কল্পনা বহিয়া চলিল অলখ সৌদামিনী।

ভাষা রথ ধায় পুবে পশ্চিমে সূর্য রথের সাথে,

উধাও হইল মানবচিত্ত স্বর্গের সীমানাতে।”

এ কবিতার প্রথম ছত্রেই ভারতীয় বেতারের নতুন নামের বীজ সুপ্ত ছিল। ‘আকাশবাণী’ অভিধাটি কলকাতা বেতার কেন্দ্রের এসিস্ট্যান্ট স্টেশন ডিরেক্টর অশোক কুমার সেনের মনে আলোড়ন তোলে। পরবর্তীতে, ১লা এপ্রিল ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে অল ইন্ডিয়া রেডিও’র অপর নাম “আকাশবাণী” রাখা হয়। মূলত, ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে মহীশূরের প্রাইভেট বেতার কেন্দ্র “আকাশবাণী” অবলুপ্ত এবং অল ইন্ডিয়া রেডিও’র সাথে আত্তীকৃত হয়। এরফলে অল ইন্ডিয়া রেডিও’র দ্বিতীয় নামকরণ “আকাশবাণী” করার ক্ষেত্রে কোন আইনগত জটিলতা থাকল না। এই দিনটি থেকে অল ইন্ডিয়া রেডিও’র সম্প্রচারকালীন না ঘোষণা হয় “আকাশবাণী”।

৩রা অক্টোবর, ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ:

অল ইন্ডিয়া রেডিও’র  দিল্লী, বোম্বাই এবং মাদ্রাজে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান প্রচার শুরু।

১লা অক্টোবর, ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ:

অল ইন্ডিয়া রেডিওর বর্হিবিশ্ব কার্যক্রম (এক্সটারনাল সার্ভিস)-এর যাত্রা শুরু। পশতু ভাষায় সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু। মূলত, আফগানিস্তানে জার্মান প্রপাগান্ডা প্রতিরোধে সম্প্রচার কার্যক্রমটির সূচনা।

১৬ই ডিসেম্বর ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ:

ক্ষুদ্র তরঙ্গে অল ইন্ডিয়া রেডিও ঢাকা কেন্দ্রের যাত্রা শুরু। মূলত মায়ানমার (তৎকালীন বার্মাসহ) পূর্ব এশিয়াতে অক্ষ শক্তির প্রপাগান্ডা প্রতিরোধে সম্প্রচার কার্যক্রমটির সূচনা। প্রথম স্থাপিত স্টেশনের ক্ষমতা ছিল ৫ কিলোওয়াট। কল্যাণপুরে ট্রান্সমিটার স্থাপন করা হয়। স্টেশন ডিরেক্টর ড. অমূল্যচন্দ্র সেন। ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে একটি ভাড়া করা বাড়িতে (বর্তমানে এটি বোরহান উদ্দিন কলেজ) দুটি স্টুডিও নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রথম নামকরণ করা হয় “ঢাকা ধ্বনি বিস্তার কেন্দ্র”। কালের পরিক্রমায় বেতার ভবন শাহবাগে স্থানান্তরিত হয় ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের ৮ই ফেব্রুয়ারি।

১৯৬০-এর দশকে ঢাকার শাহবাগে নবনির্মিত ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্র ভবন।

১লা মার্চ ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দ:

অল ইন্ডিয়া রেডিওর সঙ্গীতানুষ্ঠানে হারমোনিয়াম বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়। এর আগে ওই বছর জানুয়ারি মাসে কলকাতা বেতারের অশোককুমার সেনকে চিঠি দিয়ে রবীন্দ্রনাথ তাঁর লেখা গান বেতারে প্রচারে আপত্তি জানান  মূলত হারমোনিয়ামের কারণে। লায়োনেল ফিলডেনের কাছেও বাদ্যযন্ত্রটি অপছন্দের ছিল। রবীন্দ্রনাথের চিঠি তাঁর কাছে পৌঁছানোর দেড় মাসের মধ্যেই তিনি সব ক’টি বেতার কেন্দ্রেই হারমোনিয়াম বর্জনের নির্দেশ দেন। পরবর্তী প্রায় ত্রিশ বছরের ওপর অল ইন্ডিয়া রেডিওতে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল।

এপ্রিল, ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দ:

লায়োনেল ফিলডেন ভারত ছেড়ে নিজের কর্মস্থল বিবিসি’তে ফেরত যান। তারই অধিনস্ত আহমদ শাহ বোখারি এবার তার স্থলাভিষিক্ত হন।

২৪শে অক্টোবর, ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ:

গুরুত্বের বিবেচনায় নতুন স্থাপিত তথ্য ও সম্প্রচার ডিপার্টমেন্টের অধীনে অল ইন্ডিয়া রেডিওর সম্প্রচার কার্যক্রম চালু। (সুত্র: অল ইন্ডিয়া রেডিও)।

১১ই অক্টোবর ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ:

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে বাংলা ভাষায় অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু। প্রথমদিকে বিবিসি বাংলা’র অধিবেশন স্থিতি ছিল ১৫ মিনিট।

ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দ:

কন্ট্রোলার অব ব্রডকাস্টিং পদকে ডিরেক্টর জেনারেল পদে নামকরণ করা হয়। অল ইন্ডিয়া রেডিও’র প্রথম ভারতীয় মহাপরিচালক হিসেবে আহমেদ শাহ বোখারি নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তিনি ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি তার প্রাক্তন শিক্ষায়তন লাহোর গভর্নমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ পদে ফিরে যান। বেতারের কর্মজীবনে এই সুপন্ডিত ব্যক্তিটি আট হাজার ইংরেজি শব্দের সম্প্রচার উপযোগী উর্দু ও হিন্দী প্রতিশব্দ সংবলিত একটি অভিধান রচনা করেন।

১৪ই আগস্ট ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ:

ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশ শাসনের অবসান। নব্য স্বাধীন রাষ্ট্র পাকিস্তানের অভ্যুদয়। রেডিও’র নতুন নাম রেডিও পাকিস্তান। প্রথম মহাপরিচালক জুলফিকার আলী বোখারি। দেশ বিভাগকালে ভারতে প্রতিষ্ঠিত বেতার কেন্দ্রের সংখ্যা ৬টি (দিল্লী, বোম্বে, কলকাতা, মাদ্রাজ, তিরুচিরাপল্লী, এবং লাখনৌ) এবং তৎকালীন পাকিস্তান রাষ্ট্রে বেতার কেন্দ্রের সংখ্যা ৩টি ( পেশোয়ার, লাহোর এবং ঢাকা)। (সুত্র: অল ইন্ডিয়া রেডিও)।

২৭শে অক্টোবর ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ:

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রচার ভবন থেকে নিজস্ব অনুষ্ঠান প্রচার শুরু। প্রেরণ কেন্দ্র থেকে অনুষ্ঠান প্রচার শুরু হয় ১লা মার্চ ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দ।

২৫শে ডিসেম্বর ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ:

রাজশাহী আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রচার ভবন থেকে নিজস্ব অনুষ্ঠান প্রচার শুরু। প্রেরণ কেন্দ্র থেকে অনুষ্ঠান প্রচার শুরু হয় জুলাই ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ।

১৬ই মে ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ:

বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম-এর নিজস্ব প্রচারভবন থেকে অনুষ্ঠান প্রচার শুরু। 

২০শে নভেম্বর ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দ:

বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে বহির্বিশ্ব কার্যক্রম, ঢাকা দপ্তরের অনুষ্ঠান প্রচার শুরু। পরবর্তীতে, স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে বহির্বিশ্ব কার্যক্রম, বাংলাদেশ বেতার নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এই দপ্তর থেকে ইংরেজি, হিন্দী, আরবী, নেপালী ও বাংলা ভাষায় অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়।

৭ই মার্চ ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান। এই দিন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ দানকালে বক্তৃতা মঞ্চে ঢাকা বেতার টিম-এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন ঢাকা বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক জনাব আশরাফ-উজ-জামান খান। জাতির পিতার ভাষণ বেতারে প্রচারিত না হওয়ায় বেতার কর্মীদের প্রতিবাদ ও কর্ম  বিরতী।

জাতির পিতার ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বাংলাদেশ বেতার থেকে ৮ই মার্চ একযোগে দেশব্যাপি প্রচার হয়।

৮ই মার্চ ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ এই দিন আনুমানিক সকাল সাড়ে আটটায় মধ্যম তরঙ্গে ঢাকা বেতার কেন্দ্র থেকে সম্প্রচার করা হয়। সকল আঞ্চলিক বেতার কেন্দ্র এই ভাষণ রিলে করে এবং দেশব্যাপী সম্প্রচার নিশ্চিত করে।

২৫শে মার্চ ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ:

বেতার কেন্দ্র থেকে “রেডিও পাকিস্তান” নাম ঘোষণাটি সম্পূর্ণ বর্জন। এই দিন পূর্বাহ্নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আহুত অসহযোগ আন্দোলনের প্রভাবে প্রত্যেক আঞ্চলিক বেতার কেন্দ্র নিজ নিজ আঞ্চলিক নাম ঘোষণা শুরু করেছিল। যেমন: ঢাকা বেতার কেন্দ্র, চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র। (বেতার মুক্তি সংগ্রামে, বেলাল মোহাম্মদ-এর প্রবন্ধ অনুসারে। সূত্র: হাসান হাফিজুর রহমান, ১৯৮২)।

কালুরঘাট বেতার প্রেরণ কেন্দ্র, চট্টগ্রাম (১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ)

২৬শে মার্চ ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ:

বেলা ২টা বেজে ৭ মিনিটে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্রের (পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র) সম্প্রচার শুরু। প্রথম অধিবেশনের স্থিতি প্রায় ৫ মিনিট। বাংলার জনগণের প্রতি দখলদার বাহিনীকে সর্বশক্তি দিয়ে রুখে দাড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়। চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জনাব এম এ হান্নান এই আহ্বান জানান। প্রথম পর্যায়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র গঠনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন দশ জন শব্দ সৈনিক। এরা হলেন: বেলাল মোহাম্মদ, আবুল কাশেম সন্দ্বীপ, সৈয়দ আবদুস শাকের, আবদুল্লাহ আল ফারুক, মোস্তফা আনোয়ার, রাশেদুল হোসেন, আমিনুর রহমান, শারফুজ্জামান, রেজাউল করিম চৌধুরী, কাজী হাবিবউদ্দিন।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ২৬শে মার্চ থেকে ৩০শে মার্চ ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কালুরঘাট প্রেরণ কেন্দ্র, চট্টগ্রাম থেকে সম্প্রচার অব্যাহত রাখে। পরবর্তীতে, পাকিস্তানী বিমান হামলায় প্রেরণ কেন্দ্র বিধ্বস্ত হলে, স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র দ্বিতীয় পর্যায়ে, সাময়িক সময়ের জন্য ভারতের আগরতলা থেকে সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করে।

 ১০ই এপ্রিল ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার আলোকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ দলের হাইকমান্ড সদস্যদের নিয়ে ১০ই এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠন করেন। এরপর বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ১০ই এপ্রিল রাতে তিনি ভাষণ দেন। ভাষণটি স্বাধীন বাংলা বেতারের গোপন কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয়। তাঁর এই বেতার ভাষণ থেকে সবাই জানতে পারেন, বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি আইনানুগ সরকার গঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অধীনস্ত দপ্তরসমূহ ছিল: প্রতিরক্ষা, ক্যাবিনেট ও সংস্থাপন, প্রেস, তথ্য, বেতার, ফিল্ম, আর্ট এন্ড ডিজাইন এবং পরিকল্পনা।

১৭ই এপ্রিল ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ:

মুজিব নগর অস্থায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ ও আনুষ্ঠানিক আত্ম প্রকাশ। এদিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বেতার ভাষণ প্রদান করেন। একই সাথে, এই দিন মুক্তিযুদ্ধের প্রচার জোরদার করার উদ্দেশ্যে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রকে নতুন ভাবে সংগঠনের দায়িত্ব অর্পিত হয় টাঙ্গাইল থেকে ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী মেম্বার অব ন্যাশনাল এসেম্বলি (এমএনএ) জনাব আবদুল মান্নান-এর উপর। তিনি প্রবাসী সরকারের তথ্য ও প্রচার বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত (ইনচার্জ) ছিলেন। তথ্য ও প্রচার বিষয়ে প্রথম সচিব ছিলেন  জনাব আবদুস সামাদ। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়ের প্রথম সচিব ছিলেন জনাব আনোয়ারুল হক খান।

মুজিব নগরে ভাষণদানরত প্রবাসী সরকারের উপরাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম (১৭ই এপ্রিল, ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ)।

২৫শে মে ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ:

মুজিব নগরে পঞ্চাশ কিলোওয়াট (মধ্যম তরঙ্গ) শক্তি সম্পন্ন ট্রান্সমিটার স্থাপন। কলকাতার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের ৫৭/৮ নম্বর দোতলা বাড়ি থেকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন শামসুল হুদা চৌধুরী, বার্তা সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন জনাব কামাল লোহানী এবং প্রকৌশল দায়িত্বে ছিলেন সৈয়দ আবদুস শাকের। দৈনিক সকাল ৭টা এবং সন্ধ্যা ৭টা এ দুই অধিবেশনে শুরু হয় অনুষ্ঠান প্রচার।

২২শে ডিসেম্বর ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ:

স্বাধীন দেশের মাটিতে বাংলাদেশ বেতারের প্রথম আনুষ্ঠানিক বেতার সম্প্রচার। এই দিন বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার ঢাকা ফিরে আসেন। প্রবাসী সরকারের আগমন উপলক্ষে সজীব চলতি ধারাবিবরণী প্রদান করেন এম আর আখতার মুকুল (চরমপত্র খ্যাত) ও কামাল লোহানী। স্বাধীন দেশে বাংলাদেশ বেতারের প্রথম মহাপরিচালক আশরাফ-উজ-জামান খান (পরিচালক পদে, মহাপরিচালকের দায়িত্বে)। স্বাধীন দেশে ঢাকা বেতার কেন্দ্রের প্রথম আঞ্চলিক পরিচালক কামাল লোহানী।  স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়ের প্রথম সচিব ছিলেন জনাব আনোয়ারুল হক খান। দেশে পূর্নাঙ্গ বেতার কেন্দ্রের সংখ্যা ৩াট (ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী)। বিশেষায়িত বেতার ইউনিট দুইটি (বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও বহির্বিশ্ব কার্যক্রম)।

২রা জানুয়ারি ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ:

এই দিন মুজিবনগর থেকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষিত হয়।

২৯শে ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ:

বাংলাদেশ বেতারের মুখপত্র “বেতার বাংলা” প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রথমদিকে পত্রিকাটি পাক্ষিকভিত্তিতে প্রচারিত হতো। বর্তমানে দ্বি-মাসিক আকারে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

১৭ই অক্টোবর ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ:

বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিস, বাংলাদেশ বেতারের নিজস্ব প্রচার ভবন থেকে অনুষ্ঠান প্রচার শুরু। এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম অডিও আর্কাইভ।

১লা ডিসেম্বর ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দ:

বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কৃষি বিষয়ক কার্যক্রম, বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠান প্রচার শুরু।

১লা জুলাই ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ:

বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে জনসংখ্যা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেল, বাংলাদেশ বেতারের যাত্রা শুরু।

১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দ:

শ্রোতা গবেষণা ও লিয়াজোঁ অনুবিভাগ-এর যাত্রা শুরু। প্রতিষ্ঠার পর “রেডিও ইউজ ইন রুরাল বাংলাদেশ-১৯৭৭” এবং “রেডিও অনুষ্ঠান ও শ্রোতা-১৯৮৯” শীর্ষক দুটি গবেষণা পত্র প্রকাশ করেছে।

১৫ই মে ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দ:

মহাশক্তি প্রেরণ কেন্দ্র, ধামরাই, ঢাকার যাত্রা শুরু। এই দপ্তরের স্থাপিত ১০০০ কিলোওয়াট ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে দেশব্যাপি মধ্যম তরঙ্গে অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়।

১লা জুলাই ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ:

খুলনা আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রচার ভবন থেকে নিজস্ব অনুষ্ঠান প্রচার শুরু। প্রেরণ কেন্দ্র থেকে অনুষ্ঠান প্রচার শুরু হয়  ৪ঠা ডিসেম্বর ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ।

৮ই মার্চ ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ:

সিলেট আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রচার ভবন থেকে নিজস্ব অনুষ্ঠান প্রচার শুরু। প্রেরণ কেন্দ্র থেকে অনুষ্ঠান প্রচার শুরু হয়  ২৭শে অক্টোবর ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ।

৩০শে জুলাই ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ:

শের-ই-বাংলা নগরে অত্যাধুনিক পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বেতার ভবনে বাংলাদেশ বেতারের ঢাকা কেন্দ্র, শাহবাগ থেকে স্থানান্তর এবং অনুষ্ঠান প্রচার শুরু। এরপর শাহবাগস্থ ঢাকা কেন্দ্রের সাবেক প্রচার ভবনটি বাংলাদেশ বেতারের সদর দফতরে রূপান্তরিত করা হয়।

বাংলাদেশ বেতার, ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্র।

১লা জুলাই ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ:

কবিরপুর প্রেরণ কেন্দ্র, সাভার, ঢাকার যাত্রা শুরু। এই প্রেরণ কেন্দ্র থেকে বহির্বিশ্ব কার্যক্রম, বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠান ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং দূর প্রাচ্যে প্রেরণ করা হয়।

১৪ই এপ্রিল ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ:

রংপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রচার ভবন থেকে নিজস্ব অনুষ্ঠান প্রচার শুরু। প্রেরণ কেন্দ্র থেকে অনুষ্ঠান প্রচার শুরু হয়  ১৬ই নভেম্বর ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ।

১লা মার্চ ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ:

পূর্ণাঙ্গ বেতার কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশ বেতার, ঠাকুরগাঁও  নিজস্ব অনুষ্ঠান প্রচার শুরু করে। প্রেরণ কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশ বেতার, ঠাকুরগাঁও কেন্দ্র যাত্রা শুরু করে ১১ই নভেম্বর ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে। এই কেন্দ্র থেকে স্থানীয় সংবাদ প্রচার শুরু হয় ৩১শে আগস্ট ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে। এই কেন্দ্রে এফ এম সম্প্রচার ২০১০ খ্রিস্টাব্দের ১লা জানুয়ারি থেকে শুরু হয়।

১৬ই মে ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ:

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ বেতার, রাঙ্গামাটি কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। এই দিন সর্বপ্রথম এ কেন্দ্র থেকে নিজস্ব অনুষ্ঠান প্রচার শুরুর মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে বাংলাদেশ বেতার, রাঙ্গামাটি কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু হয়।  ইতোপূর্বে, ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭শে নভেম্বর বনরূপার একটি সরকারী বাড়িতে চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে আনা ১ কিলোওয়াট ক্ষমতার মিডিয়াম ওয়েভ ট্রান্সমিটার উদ্বোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বেতার, রাঙ্গামাটি প্রেরণ কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে “তিনটি  নিম্নশক্তি প্রেরণ কেন্দ্র স্থাপন” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রাঙ্গামাটিতে একটি ১০ (দশ) কিলোওয়াট মধ্যম তরঙ্গ প্রেরণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজ শেষ হয় । ১৬ই আগস্ট, ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে এই প্রেরণ কেন্দ্র থেকে রিলে সম্প্রচার শুরু হয়।

১২ই জুন ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ:

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ বেতার, বরিশাল কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণশিক্ষা, শিশু ও নারী, ক্রীড়া, গান, নাটকসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনুষ্ঠান প্রচারসহ বিশেষ করে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রচারণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেতার, বরিশাল কেন্দ্রটি উল্লেখযোগ্য ভুমিকা পালন করে থাকে।

২৪শে মার্চ ২০০১ খ্রিস্টাব্দ:

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ বেতার, কক্সবাজার কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন। কেন্দ্রটি উপকূলীয় জনগণের চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে অনুষ্ঠান প্রচার করে থাকে। ঘূর্ণিঝড় এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রচারণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেতার, কক্সবাজার কেন্দ্রটি উল্লেখযোগ্য ভুমিকা পালন করে থাকে।

২৬শে মে ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ:

দেশে প্রথমবারের মত ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রম নাম ঘোষণায় এফ এম সম্প্রচার শুরু। নিরাপদ সড়ক সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ বেতার “ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রম” নামে নতুন এই কার্যক্রমের সূচনা করে। বর্তমানে ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রম এফ এম ৮৮.৮ মেগা হার্জে সম্প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। বিনোদনমূলক এই চ্যানেলটি বাংলাদেশ বেতারের অন্যতম জনপ্রিয় বেতার চ্যানেল। 

মে ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ:

দেশে প্রথমবারের মত ৮৯.৬ মেগা হার্জে রেডিও টুডে নাম ঘোষণায় বেসরকারীভাবে এফ এম বেতার কেন্দ্রের সম্প্রচার শুরু।

২০০৬ খ্রিস্টাব্দ:

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের গঠনে অসামান্য ও অসাধারণ অবদান রাখার জন্য “বাংলাদেশ বেতার” স্বাধীনতা পুরস্কার ২০০৬ লাভ করে। ক্যাটগরি: স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ। (সূত্র: মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট: cabinet.gov.bd)

১১ই অক্টোবর ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ:

বাংলাদেশ বেতার, বান্দরবান কেন্দ্রের যাত্রা শুরু। বাংলাদেশ বেতার, চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে প্রচারিত চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষায় সংবাদ প্রতিদিন এই কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে রীলে করে প্রচার করা হয়। এ ছাড়াও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে শিক্ষা, তথ্য ও বিনোদন সৃষ্টির জন্য কেন্দ্রটি কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য কাজ করে চলেছে।

১২ই মার্চ ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ:

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক “কমিউনিটি রেডিও স্থাপন, সম্প্রচার ও পরিচালনা নীতিমালা-২০০৮” প্রকাশ। এর মাধ্যমে দেশে অলাভজনক ভিত্তিতে কমিউনিটি বেতার কেন্দ্র স্থাপন ও সম্প্রচারের পথ উন্মুক্ত হয়। নীতিমালাটি ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে সংশোধিত আকারে জারী হয়।

১৩ই জুন ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ:

বাংলাদেশ বেতার, ঢাকা কেন্দ্রের অনুষ্ঠান রিলের মাধ্যমে বাংলাদেশ বেতার কুমিল্লা প্রেরণ কেন্দ্র যাত্রা শুরু করে ১৮ই জুন ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ বেতার, কুমিল্লা পূর্ণাঙ্গ বেতার কেন্দ্র হিসেবে ২০০৯ সালের ১৫ই মে নিজস্ব অনুষ্ঠানের পরীক্ষামুলক সম্প্রচার এবং ১৩ই জুন থেকে নিজস্ব অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু করে।

৮ই ফেব্রুয়ারি ২০১০ খ্রিস্টাব্দ:

বেতার সম্প্রচার মাধ্যমে দেশের কল্যাণমূলক কর্মকান্ডের পক্ষে জনমত তৈরী, শিক্ষার প্রসার ঘটানো,  শিল্প,  সংস্কৃতি,  ইতিহাস  ঐতিহ্য  সম্পর্কিত  তথ্য  জনসাধারণের  কাছে  পৌঁছে  দেয়া  তুলনামূলকভাবে সহজসাধ্য প্রক্রিয়া। এ সকল দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ বেতার ছাড়াও বর্তমানে বেসরকারি মালিকানাধীন এফ.  এম.  বেতারকেন্দ্রসমূহ  অনুষ্ঠান  সম্প্রচার  করছে। এরই আলোকে দেশের বেসরকারি খাতে মানসম্মত বেতারকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক “বেসরকারি মালিকানায় বেতারকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা-২০১০” জারী করা হয়।

১৩ই ফেব্রুয়ারি ২০১১ খ্রিস্টাব্দ:

২০১০ খ্রিস্টাব্দে স্প্যানিশ রেডিও একাডেমির প্রস্তাব অনুসারে ২০১১ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের প্যারিস নগরীতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কোর ৩৬তম জেনারেল কনফারেন্সে এই দিবস ঘোষণা করা হয়। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই ফেব্রæয়ারি জাতিসংঘ রেডিও (ইউএন রেডিও) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাই, এই দিনটিকেই বিশ্ব বেতার দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।  আমাদের দেশে প্রথম বিশ্ব বেতার দিবস পালিত হয় ২০১২ খ্রিস্টব্দে।

৬ই অগাস্ট ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ:

স্বাধীন, বহুমুখী, দায়বদ্ধ এবং দায়িত্বশীল সম্প্রচার ব্যবস্থা গড়ে তোলা ও বাংলাদেশের সম্প্রচার মাধ্যমসমূহকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার লক্ষ্য নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪ জারী করা হয়।

৪ঠা জুলাই ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ:

বাংলাদেশের সাংবিধানিক অঙ্গীকার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক মান এবং রীতিনীতি অনুসরণপূর্বক অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনার ব্যবস্থা অব্যাহত রেখে দেশের গণমাধ্যম ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা ২০১৭ জারী করা হয়।

১২ই মার্চ ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ:

শাহবাগস্থ বাংলাদেশ বেতার, সদর দপ্তরসহ এখানকার সকল দপ্তর আগারগাঁও জাতীয় বেতার ভবনের প্রাঙ্গনে স্থানান্তর। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় আটান্ন বছর শাহবাগস্থ দপ্তর থেকে বাংলাদেশ বেতার নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন ঢাকা কেন্দ্র এই ভবনে নাজিমুদ্দিন রোড থেকে স্থানান্তরিত হয়েছিল।

৩১/১ বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ সরণি, শের-ই-বাংলা নগর, আগারগাঁওস্থ বাংলাদেশ বেতারের নবনির্মিত সদর দপ্তর ভবন। বর্তমানে এই ভবন থেকে সদর দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

১লা নভেম্বর ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ:

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ১৩তম আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশ বেতার, গোপালগঞ্জ বেতার কেন্দ্রর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন এবং একই দিন থেকে নিয়মিত অনুষ্ঠান প্রচার শুরু।

৩রা নভেম্বর ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ:

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ১৪তম আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশ বেতার, ময়মনসিংহ বেতার কেন্দ্রর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন। ৪ঠা নভেম্বর ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে নিয়মিত অনুষ্ঠান প্রচার শুরু।

—————-

“বেতার সম্প্রচারের ঘটনা প্রবাহ” শীর্ষক এই প্রবন্ধটি বাংলাদেশ বেতারের দ্বিমাসিক পত্রিকা “বেতার বাংলা, পৌষ-মাঘ/১৪২৮” বঙ্গাব্দ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রবন্ধটির লেখক দেওয়ান মোহাম্মদ আহসান হাবীব, উপ-পরিচালক পদে ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রম বাংলাদেশ বেতারে কর্মরত আছেন।


তথ্যসূত্র:

  1. কলকাতা বেতার, সম্পাদনা: ভবেশ দাশ ও প্রভাত কুমার দাস, প্রকাশক: পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্র  (কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীন), আইবি ২০১, সল্টলেক, কলকাতা ৭০০১০৬, প্রকাশ: জানুয়ারি ২০১১।
  2. কলকাতা বেতার ২, সম্পাদনা: ভবেশ দাশ, প্রকাশক: অণিমা বিশ্বাস, মুদ্রক: এসপি কমিউনিকেশনস, ৩১/বি রাজা দীনেশ স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০৯, প্রকাশ: নভেম্বর ২০১৪, আইএসবিএন: ৯৭৮-৯৩-৮৪০০২-৩৪-৩।
  3. কলকাতা বেতার ৩, সম্পাদনা: ভবেশ দাশ, প্রকাশক: অণিমা বিশ্বাস, মুদ্রক: এসপি কমিউনিকেশনস, ৩১/বি রাজা দীনেশ স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০৯, প্রকাশ: নভেম্বর ২০১৪, আইএসবিএন: ৯৭৮-৯৩-৮৪০০২-৩৬-৭।
  4. তথ্যপত্র, রেডিও বাংলাদেশ, সদর দফতর, ১২১ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, ঢাকা-১০০০। প্রকাশ: ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ।
  5. প্রসার ভারতী, অল ইন্ডিয়া রেডিও, দিল্লী, ভারত। সূত্র: https://prasarbharati.gov.in/milestones/
  6. প্রথম আলো, ১০ এপ্রিল ২০২১, ডেস্ক রিপোর্ট: ১০ এপ্রিল ১৯৭১ নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বেতার ভাষণ।
  7. বিপ্রদাশ বড়ুয়া (২০১০) সম্পাদিত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও শব্দ সৈনিক, পার্ল পাবলিকেশন্স, ঢাকা।
  8. হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৮২) সম্পাদিত, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র (৩য় খন্ড), তথ্য মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ঢাকা।
  9. হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৮২) সম্পাদিত, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র (৫ম খন্ড), তথ্য মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ঢাকা।
  10. হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৮২) সম্পাদিত, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র (১২শ খন্ড), তথ্য মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ঢাকা।
  11. শামসুল হুদা চৌধুরী (১৯৮২), একাত্তরের রনাঙ্গন, আহমদ পাবলিশিং হাউজ, ঢাকা।
  12. Bangladesh Betar, Source: betar.gov.bd
  13. British Broadcasting Service, London, United Kingdom, Source: bbc.com
  14. Chronology of Pakistan Broadcasting Corporation (PBC), Radio Pakistan in the Light of History, Source: http://www.radio.gov.pk/chronology-of-pbc, Site accessed: 7th May 2021.
  15. Reuters Institute for the Study of Journalism, University of Oxford, United Kingdom, Source:  https://reutersinstitute.politics.ox.ac.uk/
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Copyright © 2020 |Traffic FM Privacy Policy|Site Edited by Deputy Director (Traffic) | Maintained By Director (Traffic) | Supervised By DDG(Programme), Bangladesh Betar | Developed By SA Web Service