বাংলাদেশ বেতার অডিও লাইব্রেরি । বাউল

ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রম, বাংলাদেশে সম্প্রচারিত প্রথম এফএম বেতার কেন্দ্র। স্টেশনটি প্রতিদিন সকাল ৭.০০ টা থেকে রাত ১১.০০ টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে থাকে। এফ এম ৮৮.৮ মেগা হার্টজে প্রচারিত এই বেতার কেন্দ্রটি প্রতিনিয়ত শ্রোতা আকর্ষণ সৃষ্টি ও শ্রোতা প্রিয়তা ধরে রাখার জন্য নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে। এরই স্বীকৃতি স্বরূপ আজ বাংলাদেশ বেতারের অন্যতম জনপ্রিয় চ্যানেল ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রম।

ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রম, বাংলাদেশ বেতারের আধিকারিকবৃন্দ।

কেন্দ্রটির শ্রোতা আকর্ষণ সৃষ্টির সার্বক্ষণিক প্রয়াশসমূহের সর্বশেষ সংযোজন Bangladesh Betar Audio Library সংক্ষেপে BBAuL । অথবা বলা যেতে পারে “বাউল” ডেটাবেজ সিস্টেম। “বাউল” ডাটাবেজের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাৎক্ষণিকভাবে শ্রোতা অনুরোধের গান/ তথ্য/ অডিও কন্টেন্ট প্রচার করা। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য, একটি ব্যবহার বান্ধব অডিও ডেটাবেজ নিশ্চিত করা, যার মাধ্যমে অনুষ্ঠান নির্মাণে একজন প্রযোজক কিংবা প্রযোজনা সহকারীকে কখনই শূন্য থেকে শুরু করতে হবে না, বরং কিছুটা এগুনো পথে কাজ শুরু করতে পারবেন। তৃতীয়ত, আমাদের দেশের সঙ্গীত জগতের বিকাশের জন্য জনস্বার্থে শ্রোতার মনন ও পছন্দে ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়নের প্রয়াস রচনা করা। “বাউল” উদ্ভাবন সম্পর্কে আরো সুনির্দিষ্ট ভাবে বলা যায়, এটি হচ্ছে অনলাইন ভিত্তিক ডাটা এপ্লিকেশন সিস্টেম, যেখানে চাইলেই একজন প্রযাজক, সুনির্দিষ্ট অডিও কন্টেন্ট অনলাইনে শুনতে এবং প্রয়োজনে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

“বাউল” ডেটাবেজটির উন্নয়নের সাথে বাংলাদেশ বেতারের অসংখ্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুক্ত রয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রম, বাংলাদেশ বেতারে দায়িত্ব পালন করা বিগত দিনের সকল পরিচালক মহোদয়দের “বাউল” টিম বিনয়ের সাথে স্মরণ করছে। বিশেষ করে সর্বজনাব আনোয়ার হোসেন মৃধা, শেখ মুহাম্মদ রেফাত আলী, মির শাহ আলম, এসএম আবুল হোসেন, এসএম জাহিদ হোসেন, মোঃ ছালাহউদ্দিন মহোদয়সহ বর্তমান দপ্তর প্রধান জনাব রওনক জাহানের নাম অন্যতম। সম্মানিত এই কর্মকর্তাগণ প্রত্যেকেই এই কাজটির প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন এবং কাজটিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছেন।

এ প্রসঙ্গে বর্তমান দপ্তর প্রধান রওনক জাহান বলেন: “আসলে শ্রোতারাই বাংলাদেশ বেতারের প্রাণ। সময়ের সাথে সাথে শ্রোতাদের চাহিদার পরিবর্তন হয়েছে। আর এই চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখেই বাংলাদেশ বেতার অডিও লাইব্রেরি, যেটাকে আমরা বাউল বলছি সেই বাউল ডেটাবেজ তৈরি। ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রম অত্যন্ত ছোট পরিসরে বাউল ডেটাবেজটি তৈরি করেছে। এটাকে আরো বড় পরিসরে এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা দরকার। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্ঠাতেই এই শুভ উদ্যোগটি টিকে থাকবে। আমরা স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশ বেতারের সকল কেন্দ্র ইউনিট একদিন বাউল ডেটাবেজটি ব্যবহার করবে এবং শ্রোতাদের আরও আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান উপহার দিবে।”

 “বাউল” ডেটাবেজের ব্যবহারের ফলে পেশাদারীভাবে অনুষ্ঠান সম্প্রচারে বেশ কিছু সুফল পাওয়া যাবে। যেমন: “বাউল” ডাটাবেজে ডাটা এন্ট্রির ক্ষেত্রে একই সাথে একাধিক ব্যক্তি একাধিক স্থান থেকে ডাটা ইনপুট দিতে পারেন। একই সাথে ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে প্রচারেয় অনুষ্ঠান সংক্রান্ত ডাটা ব্যবহার করতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, বাউল ডাটাবেজ ব্যবহারকারী নিজের প্রয়োজনমত প্যারামিটার দিয়ে ডাটাবেজের তথ্য সার্চ করতে পারবেন এবং প্রাপ্ত কন্টেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে প্রচার করতে পারবেন। উদাহরণ স্বরূপ, “একজন শ্রোতা এসএমএস-এর মাধ্যমে শিল্পী আগুনের একটি গান শুনতে চাইলেন। দ্বিতীয় একজন শ্রোতা তানজিনা করিম স্বরলিপির কন্ঠে একটি গান শুনতে চাইলেন। এরপর, তৃতীয় একজন শ্রোতা বেতার বিষয়ক একটি গান শুনতে চাইলেন। বাউল সিস্টেমে সার্চ অপশন ব্যবহার করে এই তিনজন শ্রোতার চাহিদাই একটি মাত্র গান প্রচার করে পূরণ করা সম্ভব। শিল্পী আগুন এবং তানজিনা করিম স্বরলিপির দ্বৈতকন্ঠে বেতার সম্পর্কিত এরকমই একটি গান হল, তুমি যে সবার সুখে দুঃখে দুর্যোগে”।

বাউল ডেটাবেজ সম্পর্কে বাংলাদেশ বেতারের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অনুষ্ঠান) জনাব সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশ বেতার অডিও লাইব্রেরিটি গঠন করার ফলে, আমরা কিন্তু পুরাতন এনালগ সিস্টেম থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে উত্তরণ ঘটালাম। এই জিনিসটি অবশ্যই আমরা জনস্বার্থে করব। বাংলাদেশ বেতারই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে শিল্পীদের লালন পালন করা হয়, শিল্পীদের নার্সিং করা হয়, শিল্পীদের মান উন্নয়নের জন্য নানান রকম প্রশিক্ষণ এবং কর্মকান্ড আমরা চালিয়ে থাকি। এই উপমহাদেশে বাঙারী সংস্কৃতি বিকাশের পিছনে স্বাধীনতার চেতনা বিকাশের পিছনে বাংলাদেশ বেতার অনণ্য অবদান দীর্ঘ দিন ধরে রেখে চলেছে। যারা প্রখ্যাত গীতিকার রয়েছেন, সুরকার রয়েছেন, শিল্পী রয়েছেন, তাদের কন্ঠকে দীর্ঘ দিন সংরক্ষণ করার জন্য নতুন প্রজন্ম ভবিষ্যতের প্রজন্মদের নিকট তুলে ধরার জন্য, তাদের কথা, তাদের গান যাতে পুনরায় শুনাতে পারি তার জন্য আর্কাইভিং-এর দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ বেতার অডিও লাইব্রেরি।”

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ইনোভেশন কার্যক্রমের আওতায় ২০২০-২১ অর্থ বছরে উদ্ভাবিত “বাউল” উদ্ভাবনী কার্যক্রমটি বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক জনাব আহম্মদ কামরুজ্জামান মহোদয়ের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ বেতারের সদর দপ্তরের সভা কক্ষে গত ২৪ জুন ২০২১ খ্রিস্টাব্দ তারিখ প্রদর্শন করা হয়। সভায় অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অনুষ্ঠান), উপমহাপরিচালক (অনুষ্ঠান),  উপমহাপরিচালক (বার্তা), বেতারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ বাংলাদেশ বেতার ইনোভেশন কমিটির সভাপতি জনাব আল আমিন খান, অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) উপস্থিত ছিলেন। সভায় “বাউল” ডেটাবেজটি উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বেতারের উপপরিচালক, জনাব দেওয়ান মোহাম্মদ আহসান হাবীব।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক জনাব আহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, “বাউল ডেটাবেজটি ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রমের উদ্ভাবিত একটি অনলাইন ডেটাবেজ সিস্টেম। আগে যেমন অনুরোধের গান শুনবার জন্য শ্রোতাদের চিঠি দিয়ে দীর্ঘ দিন অপেক্ষা করতে হত। কিন্তু, এই ডেটাবেজটি উদ্ভাবন করার ফলে এখন শ্রোতার অনলাইনে বা এসএমএস বা যে কোন সময় গান শুনতে চাইলে বা অন্য কোন অনুষ্ঠান শুনতে চাইলে সেটা সাথে সাথে শুনানো সম্ভব হয়ে থাকে। আমি ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রমের যারা এই ডেটাবেজটি উদ্ভাবন করেছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের এই কাজের ফলে, বাংলাদেশ বেতারের এই চ্যানেলটি ইতোমধ্যে অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। যার কারণে শুরুতে স্বল্প সময় প্রচার হলেও বর্তমানে জনপ্রিয়তার কারণে এই চ্যানেলের বর্তমান প্রচার সময় সকাল ৭.০০টা থেকে রাত ১১.০০টা। এই ধরণের সফটওয়্যার যেটা, অনলাইনভিত্তিক ডেটাবেজ এটা বাংলাদেশ বেতারের অন্যান্য কেন্দ্রেও যাতে ছড়িয়ে যায়, তার জন্য আমি অনুষ্ঠান বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানাব।”

“বাউল” ডাটাবেজ প্রথম পর্যায়ে শুধুমাত্র গান, প্রচারণা উপকরণ এবং কবিতা নিয়ে কাজ করা হয়েছে। এই সিস্টেমের ফলে ভবিষ্যতে ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রম, বাংলাদেশ বেতারের প্রতি দিনের প্রচারেয় গানের তালিকা এবং কিউসীট সহজেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রিন্ট করা যাবে। এতে করে সময় ও জনবল কমিয়ে যেমন সম্ভব হবে, একই সাথে সেবার মানের যথার্থ উন্নয়নও সম্ভব হবে।  মূলত, “বাউল” সিস্টেমটি অনলাইনে ল্যাপটপ বা স্মার্ট ফোন দিয়ে একজন বেতার উপস্থাপক খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারেন। এবং এর সহায়তায় গান প্রচার করে শ্রোতার তাৎক্ষণিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন। এছাড়াও, একজন আগ্রহী শ্রোতা বা পাঠক চাইলে বাউল ডেটাবেজ  সম্পর্কে অনলাইনে সহজেই বিস্তারিত জানতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে যে কোন স্মার্ট মোবাইলের গুগল ব্রউজারে /bbaul.org/ এই ঠিকানাটি লিখে বিস্তারিত তথ্য হাতের নাগালে সহজেই পেতে পারেন। 

———–

লেখক: দেওয়ান মোহাম্মদ আহসান হাবীব। উপরিচালক । ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রম । বাংলাদেশ বেতার। ৩০ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Copyright © 2020 |Traffic FM Privacy Policy|Site Edited by Deputy Director (Traffic) | Maintained By Director (Traffic) | Supervised By DDG(Programme), Bangladesh Betar | Developed By SA Web Service